কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬ এ ০৬:৩৫ PM
কন্টেন্ট: পাতা
বিগত ৫৮ বছরের বছরের গৌরবময় পদচারণায় ইস্টার্ণ রিফাইনারী পিএলসি. উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে যা একাধারে টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে। ইস্টার্ণ রিফাইনারীর উন্নয়ন কর্মকান্ডের মধ্যে উল্লেখ্য:
এসফল্টিক বিটুমিন প্লান্ট:
প্রায় ২১০ মিলিয়ন টাকা ব্যায়ে ১৯৮০ সালে ৭০,০০০ মেট্রিক টন বিটুমিন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্ল্যান্টটি বিনির্মাণ করা হয়। একইসাথে গড়ে তোলা হয় ড্রাম ম্যানুফেকচারিং প্লান্ট, যা ইআরপিএলসি. কে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিটুমিন বাজারজাতকরণের উপযোগী করার সক্ষমতা প্রদান করে।
এলপিজি সুইটেনিং ইউনিট ও এলপিজি স্ফেয়ার:
লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসোলিন থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড সম্পূর্ণরূপে অপসারণসহ অন্যান্য সালফার যৌগকে সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমার নিচে নামিয়ে উন্নতমানের এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই ইউনিট স্থাপন করা হয়। ক্রমবর্ধমান এলপিজি চাহিদা ও যোগানের সামঞ্জস্য রাখতে স্টোরেজ হিসেবে এলপিজি স্ফেয়ার স্থাপন করা হয়।
ক্রুড, ন্যাপথা ও অন্যান্য প্রডাক্ট ট্যাঙ্ক:
- প্রতিটি ৫০,০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ২ টি নতুন ক্রুড স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন,
- পাম্পিং সুবিধাসহ প্রতিটি ১৭,৫০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ২ টি নতুন ন্যাপথা স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন,
- প্রতিটি ২০,০০০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৬ টি বিভিন্ন প্রডাক্ট স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন,
- ১৯৮৮ সালে প্রায় ৬৫.১৮ মিলিয়ন টাকা ব্যায়ে ৪ টি পুরাতন ক্রুড স্টোরেজ ট্যাঙ্ক মেরামত।
৩ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও কুলিং টাওয়ার:
বৈদ্যুতিক পাওয়ারে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষে আনুষঙ্গিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ইউনিট ও কুলিং টাওয়ারসহ ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্টিম টারবাইন জেনারেশান সিস্টেম স্থাপন করা হয়।
রিভার মুরিং-৭ এ ডলফিন জেটি নির্মাণ:
ক্রুড ওয়েল রিসিভ এবং প্রোডাক্ট রপ্তানি হ্যান্ডলিং-এর জন্য পতেঙ্গাস্থ রিভার মুরিং-৭ এ ১৯৯২ সালে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন টাকা ব্যয়ে একটা আধুনিক ডলফিন জেটি স্থাপন করা হয়।
সেকেন্ডারি কনভার্সন প্রজেক্ট (এসসিপি):
১৯৯৪ সালে প্রায় ২৬০০ মিলিয়ন টাকায় স্থাপিত সেকেন্ডারি কনভার্সন ইআরপিএলসি.-এর এ যাবৎ কালে সফলভাবে সম্পন্ন প্রকল্পের মধ্যে একটি। স্বল্পমূল্যের ফার্ণেস ওয়েল থেকে অতিরিক্ত ডিজেল, এলপিজি এবং ন্যাপথা (সবকটিই দামী পণ্য) তৈরি করাই এই প্ল্যান্টের কাজ। এই প্ল্যান্টটি একটি ভিজ-ব্রেকার, একটি মাইল্ড হাইড্রোক্রেকার এবং একটি হাইড্রোজেন ইউনিট নিয়ে গঠিত।
দুইটি প্রসেস বয়লার স্থাপন:
ক্রমবর্ধমান বাষ্পের চাহিদা মিটাতে একটি ওয়াটার টিউব এবং একটি ফায়ার টিউব বয়লার স্থাপন করা হয়।
২ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ডিজেল জেনারেটর:
১৯৯৮ সালে ইআরপিএলসি. এর পাওয়ার জেনারেশনে ২ মেগাওয়াটের একটি ডিজেল জেনারেটর সংযোজিত হয়।
হোয়াইট অয়েল ট্যাঙ্ক প্রজেক্ট:
১৯৯৮ সালে প্রতিটি ১৩,০০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন চারটি আমদানীকৃত ডিজেল ওয়েল রিসেপশান ও পাম্পিং সুবিধাসম্পন্ন স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়।
প্রকৌশল ভবন:
১৯৮৪ সালে প্রায় ৭ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে প্রকৌশল ভবন তৈরি করা হয় যা দক্ষ জনশক্তি তৈরীতে অবদান রেখে যাচ্ছে।
কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি পরিবর্ধন এবং আধুনিকীকরণ:
পণ্যের গুনগত মান বজায় রাখার লক্ষে পুরাতন কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি আধুনিক করা হয়।
অগ্নি নির্বাপন এবং সেইফটি সিস্টেম পরিবর্ধন এবং আধুনিকীকরণ:
আধুনিক ফায়ার ফাইটিং যন্ত্র এবং অত্যাধুনিক ফায়ার ফাইটিং গাড়ি সংযোজনসহ ফায়ার ওয়াটার নেটওয়ার্ক পরিবর্ধন এবং আধুনিকীকরণ করা হয়।
পুরাতন ক্রুড ওয়েল ডিস্টিলেশান টাওয়ার প্রতিস্থাপন:
১৯৯৯-২০০০ সালে প্রায় ১০৩.৫২ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে ৩১ বছর অপারেশানে ক্ষয়প্রাপ্ত পুরাতন ক্রুড ওয়েল ডিস্টিলেশান ইউনিট প্রতিস্থাপন করা হয়। এ সময় অভ্যন্তরীনসহ কিছু ইন্সট্রুমেন্ট লুপ, ট্রে, ক্ল্যাডিং ইত্যাদিতে পরিবর্তন আনায় কলাম অপারেশনাল কন্ট্রোল এবং আউটপুটে প্রভুত উন্নয়ন সাধিত হয়।
নতুন ক্রুড ওয়েল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক:
২০০০-২০০১ সালে প্রায় ৩৪৭.৭৬ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে প্রতিটি ৫০,০০০ ঘনমিটার ক্ষমতাসম্পন্ন দুইটি নতুন ক্রুড ওয়েল স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়।
আরসিও স্টোরেজ ট্যাঙ্ক:
ভিজ-ব্রেকার প্ল্যান্ট মারবান আরসিও ফিড দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন চালু রাখতে এবং মূল্যবান গ্যাস ওয়েল রিকভারি করতে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ৩৩.৫৫ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে একটি ১৩,০০০ ঘনমিটার ক্ষমতার আরসিও স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়।
মেরক্স-১ রিভ্যাম্পিং:
স্ট্রেইট-রান গ্যাসোলিন মেরক্স প্রসেস ইউনিটকে ভিজব্রেকার ন্যাপথার সাথে বর্ধিত ২২৫০ বিপিএসডি ক্ষমতায় চালোনার জন্য ইউওপি একটি প্রসেস রিভ্যাম্প স্ট্যাডি সম্পন্ন করে। উক্ত স্ট্যাডি অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে প্রায় ১৪.৩১২ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে প্ল্যান্টটি রিভ্যাম্প করা হয়।
কন্ডেন্সেট স্টোরেজ ট্যাঙ্ক:
বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে কন্ডেন্সেট গ্রহণ এবং কাঙ্খিত অনুপাতে ক্রুড অয়েলের সাথে কন্ডেন্সেট প্রসেস করতে ২০০১-২০০২ সালে প্রায় ৩৬.৬৯ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে ৭,৫০০ ঘনমিটার ক্ষমতার একটি কন্ডেন্সেট স্টোরেজ ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় ৩ মেগাওয়াট পাওয়ার জেনারেশন ইউনিট:
বর্তমান ও ভবিষ্যতের বর্ধিত পাওয়ার চাহিদা যোগান দিতে জুলাই ২০০১ সালে প্রায় ১০৮.১৮ মিলিয়ন অর্থ ব্যয়ে দ্বিতীয় ৩ মেগাওয়াট স্টীম টারবাইন জেনারেটর কমিশন করা হয়।
৩ টি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক নির্মাণ:
২০১৫ সালে প্রতিটি ১৩,০০০ মেট্রিক টন ক্ষমতার মোট ৩ টি স্টোরেজ ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয় যার একটি ফার্ণেস ওয়েল এবং অন্যটি ডিজেল স্টোরেজের জন্য।